তাযকিয়া -১

বিসমিল্লা হির রহমা-নির রহীম

মুহতারাম, আমি যিনা করেছি, জীবনে এমন ভয়ানক কোন পাপাচার নেই আমি করিনি,গুনাহে হতাশিত হয়ে আমি দিন দিন অনেক নিরাশ হয়ে যাচ্ছি,এর কারণে আরো গুনাহে জড়িয়ে পড়ছি আল্লাহ কি আমাকে ক্ষমা করবেন?

সমাধান: আপনার এখন তিনটি কর্তব্য

১, আল্লাহর নিয়ামাতের শুকরিয়া আদায় করুন আলহামদুলিল্লাহ।

সেটি কোন নিয়ামাহ? আপনার মধ্যে যে একটি অনুশোচনা এসেছে আলহামদুলিল্লাহ এটিই আপনার জন্য আল্লাহ প্রদত্ত অনেক বড় নিয়ামাহ।আপনি অপরাধ কে অপরাধ হিসেবে স্বীকার করছেন, আপনি অনুতপ্ত,তাহলে এটি পুরো পরিস্কার যে, আল্লাহর রহমত আপনার থেকে সরে যায়নি, কেননা যার মধ্যে আল্লাহর রহমত থাকেনা সে গুনাহ কে গুনাহ মনে করেনা। দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে। কিন্তু আপনার মধ্যেও এটি নেই।সুতরাং আপনি কোনোভাবেই বিচলিত হবেননা, না হতাশিত হয়ে ভেংঙ্গে পড়বেন।।

দেখুননা আমাদের রব কিভাবে বলেন

قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

আপনি বলুন, আমার প্রিয় বান্দাদের থেকে যারা নিজের উপর মাত্রাহীন সীমালংঙ্গন করেছে, তাদের বলে দিন তারা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়ে যায়, কেননা আল্লাহ এমন এক সত্ত্বা যিনি সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন, আর তিনিই তো ক্ষমাশীল, মেহেরবান।

প্রিয় ভাই! আরবিতে عِبَادٌ শব্দটি ব্যবহৃত হয় যখন খুব প্রিয় বোঝায়, তাহলে দেখুন আল্লাহু সুবহানাহু ও তায়ালা এমন ব্যক্তিকেও প্রিয় বলছেন যে মাত্রাহীন অপরাধ করেছে। এবং আশ্বাস দিচ্ছেন কোনভাবেই তাঁর রহমত থেকে নিরাশ না হতে, কেননা তিনি অবশ্যই ক্ষমা করবেন। আল্লাহ যখন এত কিছুর আশ্বাস দিচ্ছেন তাহলে আপনি কেন এত বিচলিত? চলুননা এখনি ক্ষমা চাই রবের কাছে। ফিরে আসি তাঁর নিকট।

২, ইস্তেগফার কোনটি এবং কিভাবে করব?

ইস্তেগফারের দুআ

اَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ اَلْعَظِيْمَ الِّذِيْ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّوْمُ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ
(আস্তাগফিরুল্লাহা আল-আযীম, আল্লাযী লা-ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল ক্বইয়্যূম।

আর জীবনেও গুনাহে জড়াবেননা আল্লাহ কে এই আশ্বাস দিয়ে, একটু মনে প্রাণে উপরের দুআটি পড়ুন ইন শা আল্লাহ অবশ্যই অবশ্যই তিনি আমাকে ও আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন।

৩, কখন করব ইস্তেগফার?

নীরবে একাকী ভাবুন কি কি গুনাহ করেছেন গুনাহগুলো স্বরণ করে করে উপরের দুআটি পড়ুন আর আল্লাহ কে ওয়াদা দিন আর কোন প্রকার গুনাহে জড়াবেননা, রাতে শোয়ার সময় বা যখন একাকী থাকেন তখন গুনাহের নাম স্বরণ করে করে ইস্তেগফার করুন। অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার করলে অন্তর শীতল হয়, দিলে প্রশান্তি আসে আলহামদুলিল্লাহ।

নোট: ইবাদাতে অবিচল থাকার দু’টি পথ

১, ইবাদাতে অটল থাকতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া, এভাবে বলা হে আল্লাহ আমাকে দ্বীনের পথে অবিচল রাখুন। আমি দ্বীন কে সঠিক ভাবে পালন করতে চাই। আমাকে তাওফীক দাও হে আমার রব!

২, দ্বীনি পরিবেশে যুক্ত থাকা। অন্যকে দাওয়াত দেয়া, নিজে অপরাধী হলে দাওয়াত দিতে থাকা ,দাওয়াত দেয়ার দ্বারা নিজের মধ্যে অনুশোচনা আসে, যে কারণে আমলে অটল থাকা সহজ হয় আলহামদুলিল্লাহ।

From Uloom ul Quraan Academy -UQA
কেউ জয়েন করতে চাইলে 👇
টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিঃক:

UQA-তাযকিয়াহ কোর্স



Source